বোরকা-নেকাব পরিধানকে নিষিদ্ধ করেছে যেসব দেশ
বোরকা-নেকাব পরিধানকে নিষিদ্ধ করেছে যেসব দেশ
শুধু আমেরিকা এবং ইউরোপে বোরকা নিষিদ্ধ নয়, বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে ও বোরকা নিষিদ্ধ রয়েছে এবং আরো কিছু মুসলিম প্রধান দেশে এ বিষয় নিয়ে তর্ক - বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
ফ্রান্স
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সর্বপ্রথম 2011 সালে বোরকার নেকাব পরা নিষিদ্ধ করা হয় ৷ তাদের আইনে বোরকা বা নেকাপ করলে জরিমানা ব্যবস্থা রয়েছে।
বেলজিয়াম
কোন নারী তার পুরো মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারবে না এই নিয়ম বেলজিয়ামের 2011 সালে করা হয়।
নেদারল্যান্ডস
২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডসে বোরকা নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়। যদিও ২০১৯ সাল থেকে এই আইন কার্যকর করা হয়। বিশেষ করে জনসম্মুখে যেমন স্কুল কলেজ ও হাসপাতালে নিষিদ্ধ।
স্পেন
পুরো স্পেন বোরকার নেকাব নিষিদ্ধ না করলেও বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করেছে।
ব্রিটেন
ব্রিটেনে প্রচুর মুসলিমের বাস হওয়ায় কোন ইসলামী পোশাকের উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে স্কুলগুলোতে নির্দিষ্ট পোশাক পরেই যেতে হয়।যার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি মামলার পর 2007 সালে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয় যে স্কুলে কেউ বোরকার নেকাব পরে আসতে পারবে না।
সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ডের যেখানে ইতালীয় ভাষাভাষীদের বসবাস সেখানে একটি বট হয়ে জাছিল বোরকা নিষিদ্ধের ওপর। সেই ভোটে নিষিদ্ধ করার পক্ষে 65 শতাংশ ভোট পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে 26t শহরে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়। কেউ জনসম্মুক্ষে বোরকা পড়লে সেই দেশের নিয়ম অনুযায়ী 9200 ইউরও পর্যন্ত জরিমানা দিতে হয়।
ইটালি
বেশ কয়েকটি শহরে নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইতালিতে। পশ্চিমাঞ্চলের শহর নভারা আইন করেই বোরকা নিষিদ্ধ করেছে সেখানে। ইতালি ইসলামী পোশাকের ওপর সত্তর দশক এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
অস্ট্রিয়া
দেশটিতে এখন যে ক্ষমতাসীন জোট সরকার ক্ষমতায় আছে তারা একমত হয়েছে যে প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ ঢাকা কিংবা নিকাব পরা নিষিদ্ধ। স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতেও এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে একমত হচ্ছে তারা। এছাড়াও সরকারি চাকরিজীবীদের হিচাপ অস্কার কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা বিবেচনা করছে সেই দেশের সরকার।
জার্মানি
জার্মানিতে স্কুলে বোরকা নেকাব নিষিদ্ধ করেছে ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যে। এমন কিছু করা যাবে না, যা পুরো মুখটা ঢেকে রাখে। একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জার্মানি সরকারি মহিলাদের দেখতে রাজি নয়।
শাড
২০১৫ সালের জুন মাসে দুটি বোমা হামলার দুই দিন পর নারীদের মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করেছে শাড৷কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে রাখা হয়েছে কারাদণ্ডের বিধান৷ এমনকি সেখানে বোরকা বিক্রি করা ও নিষিদ্ধ।
ক্যামেরুন
যখন শাডে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করা হয় তার এক মাসের মধ্যেই আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তাজিকিস্তান
এশিয়ার একটি মুসলিম প্রধান দেশ হয়েও তাজিকিস্তান 2017 সালের সেপ্টেম্বরে বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করে। ইসলামী প্রচলিত মুখ ঢাকা পোশাক পরার চেয়ে দেশটিতে যে ঐতিহ্যগত পোশারয়েছে সেটি পড়ার দিকে মনযোগী হতে নারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক। তবে এখনো কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি, তবে খুব তাড়াতাড়ি জরিমানা-কারাদণ্ড চালু করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে দেশটিতে।
মরক্কো
আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে 2017 সালের জানুয়ারিতে বোরকা আমদানী ও বিক্রি এবং উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এর কোনোটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তাই এই বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
নাইজার
জঙ্গিগোষ্ঠী এর কার্যক্রম বেশি থাকায় দেশটির ফিদা এলাকায় পর্দা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা
দেশটিতে 2019 সালের 21 শে এপ্রিল এ গির্জায় আত্মঘাতী বোমা হামলা হওয়ার পরের সপ্তাহেই মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করা হয়।
তিউনিসিয়া
আফ্রিকার এই মুসলিম প্রধান দেশ 2019 সালে জঙ্গি আক্রমণ মোকাবেলায় প্রধান কারণ বলে জানিয়ে গণজমায়েতের স্থান গণপরিবহন ও সরকারি অফিস-আদালত নিষিদ্ধ করে দেশটির সরকার।

Comments
Post a Comment