গণতান্ত্রিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা
গণতান্ত্রিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা:
কোদাল দিয়ে যেমন ধান কাটা যায় না, কাস্তে দিয়ে তেমনি মাটি কাটা যায় না। আমরা সবাই জানি ধান কাটতে কাস্তে লাগে আর মাটি কাটতে কোদাল লাগে। তেমনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে গণতান্ত্রিক সংগঠন এর বিকল্প নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সংগঠনের কোন রুপরেখা কিংবা রেডিমেড মডেল আমাদের সামনে হাজির নেই।
লক্ষ প্রানের বিনিময়ে কেনা বাংলাদেশের সংবিধানে যেমন রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা একজনের হাতে তুলে দিয়ে তাকে রাষ্ট্রের এবং সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে, একইভাবে এখানকার প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির সকল ক্ষমতাও তেমনিভাবে একব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে, যেন তা ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো উত্তরাধিকারসূত্রে বণ্টন করা যায় এবং বিগত পঞ্চাশ বছরে হয়েছেও তাই।
প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের বাইরে আদর্শভিত্তিক যে সব দল-গ্রুপ বা গোষ্ঠী রয়েছে তারাও বড় দলগুলির সাথে দৃশ্যমান কোনো পার্থক্য নির্মাণ করতে পারেনি। এইসব দলের প্রধান প্রধান পদ উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরযোগ্য না হলেও, নেতাদের জীবদ্দশায় তাদের হাত থেকে দলের নেতৃত্ব স্থানান্তরের কোনো নজীর প্রায় নেই বললেই চলে। আর ধর্ম ব্যবহারকারী যে সব রাজনৈতিক দল রয়েছে, তাদের মধ্যে পীরপন্থীরা আদর্শিকভাবেই উত্তরাধিকারপন্থী। বাকিদের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান কোনো পার্থক্য চোখে পড়েনা।
ফলে এইসব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা-বিবৃতিতে যতো-যাই বলুক-না-কেন, রাষ্ট্র-রাজনীতি-দলের উপর ব্যক্তিগত মালিকানা বজায় রাখার প্রশ্নে তারা একে অপরের পরিপূরক হিসাবেই কাজ করে। এইসব ব্যক্তি-মালিকানাধীন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত/পারিবারিক সম্পত্তি মনে করে, তাই এদের দ্বারা কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হতে পারেনা।
তাই মানুষের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হলে এবং মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার সাম্য, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, সেই রকম গণতন্ত্রচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে সংগঠন এর ভেতর থেকে। যে সংগঠন এর প্রত্যেকটা সদস্য সংগঠনের মালিকানা দাবি করতে পারে এবং নেতা, কর্মী, সদস্য সকলেই সকলের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে।
এইরকম একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা ও চর্চার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াই আগামীদিনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক কাজ। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে গণতান্ত্রিক সংগঠন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। নিশ্চয়ই আমরা গণতান্ত্রিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সফলকাম হবো ইনশাআল্লাহ।
ফরিদুল হক
সদস্য সচিব, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ

Comments
Post a Comment