ভাসানীর ৪৪ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে যুব অধিকার পরিষদের আলোচনা সভা


 আজ ১৭ই নভেম্বর মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তরা রাষ্ট্রীয়ভাবে মাওলানা ভাসানীকে তুলে না ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করে, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতায় থাকাকালীন ইতিহাস বিকৃতিরও সমালোচনা করেন। 


 নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাসকে মুক্তভাবে চর্চা করা যায় না। ভারতে মহাত্মা গান্ধীর সমালোচনা হয়, চীনে মাও সেতুংয়ের সমালোচনা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে? ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বললেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য এটাই যদি যথেষ্ট হয় তাহলে ১৫-২৩ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ড.কামাল, তাজউদ্দীন আহমেদদের কি আলোচনা হয়েছিলো ? এই ইতিহাস কি কোথাও লেখা আছে? ২৩ মার্চ সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন , আলোচনার অগ্রগতি কি ? 


তিনি বললেন, অগ্রগতি যদি না হয় তাহলে কথা বলছি কেন? কথা হলো, আলোচনায় অগ্রগতি হলে ২৫ মার্চে এরকম নৃশংস গণহত্যা হয় কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ৭ মার্চ সিরাজুল আলম, রব সাহেবরা বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য পীড়াপীড়ি করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কোন হঠকারী ঘোষণা দেয়নি। ওনার কথা ধরে নিলে ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হয় কীভাবে? 

 এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন। 

খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর খুনী। কিন্তু ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে ব্যালট বাক্স ঢাকায় এনে মোস্তাককে জয়ী ঘোষণা করা হলো। এগুলো ইতিহাস। কিন্তু এর চর্চা হয় না। 


গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, শাসনকে ধরে রাখতে ক্ষমতাসীনরা জাতির মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। যার ফলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। অথচ বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান যে অবস্থা তাতে কি আমরা আন্তর্জাতিক পরাশক্তির শক্তি প্রয়োগের লীলাক্ষেত্রে পরিণত হবো? যেমনটা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে। আমি মনে করি, বর্তমানে যে সংকট চলছে সেখানে মওলানা ভাসানী হলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তাকে অনুসরণ করে আমাদের জাতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্য কারো থেকে এটা পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ভাসানী কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। কিন্তু তিনি দেখলেন, যখনই নিপীড়িত মানুষের জন্য আন্দোলন করতে চাচ্ছেন তখন কংগ্রেস বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভাসানী বুঝলেন কংগ্রেস দিয়ে হবে না। তখন তিনি নতুন দল গঠন করার পরিকল্পনা করলেন। 


ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, যারা বিভিন্ন সময় যখন ক্ষমতায় ছিলো তারা ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করে নিজেদের মতো করে লিখেছে। তাদের দলীয় নেতাদের নিয়ে মাতামাতি হয়। অথচ ভাসানীর মতো জাতীয় নেতাকে নিয়ে তারা কিছুই করে না। কারণ ভাসানীকে তারা ভয় পায়। আমরা লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে। কিন্তু জনগণের জন্য সেই চেতনার বাস্তবায়ন হয় না।ক্ষমতায় থাকতে তারা নিজেদের স্বার্থে দেশে গুম খুনের রাজত্ব কায়েম করছে। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, অধিকার তো পরের বিষয়। এই সংকটকালীন মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন ছিলো ভাসানীর মতো একজন নেতা। তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা ভাসানীর আদর্শ তুলে ধরতে চাই। ভাসানীর জীবনকে তুলে ধরতে চাই। যাতে তারা বর্তমানে মানুষের যে দুঃসময় চলছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। আমরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।

  নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকারের পরিবর্তন হবে না। কারণ, এই অথর্ব নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছে। উনি মুক্তিযোদ্ধা এজন্য আমি তাকে সম্মান জানাই কিন্তু নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ওনার কর্মকাণ্ডের ঘৃনা জানাই। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র, আইন, সংবিধান সংষ্কার করে জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।রাষ্ট্র সংস্কার চাই। 


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দীন খান বলেন, ভাসানী এই দেশের স্বাধীনতার অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানিদের ঐতিহাসিক অলাইকুম সালাম বলে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন।১৯৭০ সালে তিনি ভোটের বাক্সে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো বলে স্বাধীনতার ঘোষণাটি আরও স্পষ্ট করে দেন। দেশের সব গণআন্দোলনে ভাসানী ছিলেন নেতৃত্বে। অথচ আমাদের দূর্ভাগ্য আমরা ভাসানীর মতো নেতাদের সম্মান দিতে পারিনি। 

বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ভাসানী ছিলেন আমাদের মুক্তির দিশারি। প্রবাসী সরকারের তিনি প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। ভারত তাকে নজরবন্দী করে রাখে। আমাদের দেশের মানুষ ৯ মাস জীবন দিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা আনলো। সেখানে সব দল ছিলো। কিন্তু সরকার গঠন করলো একটি দল। ভারত আমাদের সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। আমরা প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতে পারি না। অথচ নেপাল সীমান্তে হত্যার পর ভারত মন্ত্রী পাঠিয়ে ক্ষমা চায়। এই হলো আমাদের বর্তমান অবস্থা। আজ যদি ভাসানী থাকতেন তিনি ঠিকই গণ আন্দোলন গড়ে তুলতেন।


এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদ খাঁন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহবায়ক আবদুর রহমান, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য রাখাল রাহাসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ফরিদুল হক।


বার্তা প্রেরণ 

প্রেস এন্ড মিডিয়া উয়িং 

যুব অধিকার পরিষদ।


[বার্তাটি 'Md nurul haque' নামের ভিপি নুরের নিজস্ব পেজ থেকে নেওয়া]

Comments

Popular posts from this blog

ভুলে ভরা বানানের ব্যানার নিয়ে সামির অবস্থান কর্মসূচি

বর্ধিত হলো ছাত্র অধিকার পরিষদের 'কেন্দ্রীয়' কমিটি, থাকছেন যারা-

ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি কোন পথে?